আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন যে, সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে বর্তমানে সারাদেশে চলমান সব মামলা আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে। সোমবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি এই ঘোষণা দেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধন করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের যে কোনও দুর্বলতা বা সমন্বয় প্রয়োজন তা সংস্কার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় আড়াই হাজার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বা গায়েবি মামলা চিহ্নিত হয়েছে, যাতে লাখ লাখ মানুষ আসামি। এসব মামলাও ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যাহার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি একটি বড় পদক্ষেপ, যা রাজনৈতিক শাস্তি বা হয়রানি থেকে মুক্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আইন উপদেষ্টা জানান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশোধনযোগ্য সব আইনের সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়ানো হবে এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা বন্ধ হবে এবং দক্ষতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দক্ষ হবে। এছাড়া, হাসিনা নামে একজন ব্যক্তিকে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ভারত যদি তাকে ফেরত না দেয় তবে এটি প্রত্যার্পণ আইনের লঙ্ঘন হবে। সরকার তার ফেরত আনতে সমস্ত প্রচেষ্টা চালাবে।


