দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এসকে সুর) এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মঙ্গলবার বিকালে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, এসকে সুর চৌধুরী, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং মেয়ে নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়।
এছাড়া এসকে সুরের বিরুদ্ধে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পিকে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেন। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এসকে সুর সহযোগিতা করেছেন এবং বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, পিকে হালদার এসকে সুরকে ‘ম্যানেজ’ করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এসকে সুর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এসকে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি পিকে হালদারের মতো অসাধু ব্যবসায়ীদের ঋণ অনুমোদনে সহায়তা করেছেন এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের আর্থিক খাত চরম সংকটে পড়ে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নিয়ে তাদের সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।
দুদকের কঠোর পদক্ষেপে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা
ফেরানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের আর্থিক খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে দুদক বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ টেকসই করতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর গ্রেফতার হয়েছেন


