জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের মেয়াদ আরও ১৬ দিন বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) কমিশনের পক্ষ থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী এ চিঠি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের কাছে পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশনের প্রধান লক্ষ্য ছিল জনমুখী, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপনে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে কমিশন দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় সফর করে অংশীজনদের মতামত সংগ্রহ করেছে। এ পর্যন্ত তারা ২০টির বেশি সভা করেছে। তবে খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা ও পরীক্ষার জন্য আরও সময় প্রয়োজন হওয়ায় কমিশন মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানায়। প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের ভিত্তিতে কমিশনের মেয়াদ প্রথম দফায় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। চিঠিতে আরও জানানো হয়, অনলাইনে জনগণের কাছ থেকে পাওয়া লক্ষাধিক মতামত এবং বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত নাগরিকদের প্রাপ্ত অভিমত এখনও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি কমিশনের সদস্যরা কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন অংশীজন এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ওই সফর থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা বিবেচনায় কমিশন সঠিক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কাজ করছে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও অংশীজনদের মতামত নেওয়াও আমাদের প্রক্রিয়ার অংশ।” প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের মেয়াদ একবার বাড়ানোর পর এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ১৬ দিন বাড়ানো হলো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিশনকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।


