অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ঘোষণাপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এ নিয়ে খুব বেশি দেরি হবে না। তিনি জানান, রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফুজ আলম জানান, যারা গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, “সরকার একতরফাভাবে কোনো ঘোষণাপত্র দেবে না। বরং অংশীজনদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র তৈরি করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে। “মাহফুজ আলম আরও জানান, ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দলগুলো ও গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া গোষ্ঠীগুলোর দাবিদাওয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সবার ঐক্যমতে পৌঁছানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “সংবিধান নিয়ে একটাই করণীয়, তা হলো ঐক্যমত। আমরা রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বোঝার চেষ্টা করছি, তারা কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার চান। সবার মতামত নিয়ে এগোতে চাই। “তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হাতে এলে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগলেও সকল পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, “বর্তমান প্রশাসক দিয়ে নাগরিক সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে এই সমস্যার সমাধান সহজ হবে।”
জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে হবে। এই সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলে নির্বাচনের সঠিক তারিখ নির্ধারণ করা যাবে। আমরা চাই, নির্বাচন এমনভাবে হোক যাতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পায়।” মাহফুজ আলম আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের চলমান সংকট সমাধানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো যদি সহমত পোষণ করে, তাহলে দ্রুত একটি সমাধান আসবে।”


