নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, বরাদ্দ পেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিমানবন্দরটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হবে। এতে ভারত, নেপাল, ভুটানসহ আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নতুন গতি আসবে।
বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজন সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। অবকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে দেড় থেকে দুই বছর এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন রানওয়ে নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ করতে আরও তিন থেকে চার বছর লাগবে। বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ হবে। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও প্রশস্ত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না থাকায় অনেক ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এতে কলকাতা বিমানবন্দরের ওপর চাপ বেড়ে গেছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলে ওই চাপ কমবে এবং বাংলাদেশও উপকৃত হবে। উত্তরাঞ্চলের এই বিমানবন্দরটি ১৯৭৯ সালে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিদিন এখানে ৩০-৩৫টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও নভোএয়ার নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
নেপাল ও ভুটান সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২০ সালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাইওয়ালি এই বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। ২০২২ সালে ভুটানের অর্থনৈতিক সচিব কারমা শেরিংও এ বিষয়ে আলোচনা করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে। বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, সৈয়দপুরের উন্নত বিমানবন্দর হলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।


