সাইবার অপরাধীরা ওটিপির (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করছে। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা এ ধরনের ফাঁদে পড়েছেন। অপরাধীরা প্রথমে বিভিন্ন পরিচয়ে ফোন করে ওটিপি চায় এবং তা হাতে পেলে ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এরপর ব্যক্তিগত ছবি ও আলাপচারিতা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে।
সম্প্রতি একজন সরকারি কর্মকর্তা করোনার চতুর্থ ডোজের নিবন্ধন নিয়ে ফোন পেয়ে ওটিপি শেয়ার করেন। এরপর তিনি মেসেজিং অ্যাপের নিয়ন্ত্রণ হারান। একইভাবে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ক্রেডিট কার্ড আপগ্রেডেশন বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপগ্রেডেশনের নাম করে ফাঁদে ফেলা হয়েছে।সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার জানায়, অপরাধীরা ভুক্তভোগীর একান্ত ব্যক্তিগত ছবি বা কথোপকথনের খোঁজ করে। এগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করে। এমনকি আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত অবৈধ সিমকার্ড ব্যবহার করে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে। ধারণা করা হচ্ছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘবদ্ধ চক্র এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম বলেন, “ভুক্তভোগীদের সতর্ক হতে হবে। ওটিপি কখনো অপরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপরিচিত কারও লিংকে প্রবেশ বা ভিডিও কল রিসিভ করা ঠিক নয়। কেউ যদি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন, তবে দ্রুত পুলিশের সহায়তা নিন।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের হাতে টাকা দিলে তারা আরও বেশি ব্ল্যাকমেইল করবে। মানসিকভাবে শক্ত থাকুন এবং বিষয়টি পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নিন এবং নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে বিরত থাকুন। এ ধরনের অপরাধ রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।


