২০২৪ সালের শেষ দিন আজ। আগামীকাল থেকে দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হচ্ছে। তবে নতুন বছরের স্কুলের ছুটির তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) এবং বার্ষিক ছুটি মিলিয়ে আগামী বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ১৫৮ দিন ছুটি থাকবে। এতে বছরের প্রায় পাঁচ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম মনে করেন, এত দীর্ঘ ছুটি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বাধা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে, শনিবার স্কুল খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি জোর দিয়েছেন। তার মতে, শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের প্রতি আসক্তি বাড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। শনিবার স্কুলে পাঠদান অব্যাহত রাখলে এই প্রবণতা কমানো সম্ভব।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল হক দুলু সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে একদিন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষাক্রম ও সিলেবাস সময়মতো শেষ করতে হলে ছুটি পুনর্বিবেচনা জরুরি। বেশি ছুটি থাকার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা কোচিং নির্ভর হয়ে পড়ে, যা অভিভাবকদের আর্থিক চাপও বাড়ায়। এদিকে, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই না পৌঁছানোও শিক্ষাবিদদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪০ কোটি বইয়ের মধ্যে মাত্র ১০ কোটি বই এখনো প্রস্তুত। বাকি বই মার্চের আগে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘ ছুটি ও সময়মতো বই না পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, বছরের শুরুতেই ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানে সাপ্তাহিক ছুটির নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


