সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আজ তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। উপ-প্রেস সচিব জানান, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বেশ কিছু আলামত দেশের অভ্যন্তরে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কিছু জটিল আলামতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগার ব্যবহার করা হতে পারে। তিনি বলেন, “তদন্তকাজ চলমান। প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরেও প্রয়োজনে আলামত পর্যালোচনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া হবে।”
গত বুধবার রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে সাত নম্বর ভবনের ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে অষ্টম ও নবম তলায় সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে রাখা বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত তলাগুলোতে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কার্যালয় ছিল। আগুনের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা নাশকতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তদন্ত কমিটি এই ঘটনায় যেকোনো ধরনের গাফিলতি বা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া নথি পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিকল্প উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরো সময় লাগবে।
সরকার এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সচিবালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নতি করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


