বাংলাদেশ সচিবালয়, যা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বারবার নিরাপত্তা জোরদারের সুপারিশ করলেও সেসব বাস্তবায়নে পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সম্প্রতি এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাদুর্বলতা সচিবালয়ে প্রবেশ এবং ভেতরের কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গেটপাস ছাড়া অযাচিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ইলেকট্রিক গেট চালু করা, নিজস্ব পুলিশ ইউনিট গঠন, এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট অপসারণ। তবে এসব সুপারিশ এখনো কার্যকর হয়নি। ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ জানান, নিরাপত্তা উন্নয়নে কাজ চলছে। তবে অভ্যন্তরীণ দোকানপাট ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের উপস্থিতি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সচিবালয়ের সিসি ক্যামেরার বেশিরভাগই অচল। নাইট ভিশন সুবিধা না থাকায় রাতের বেলা নজরদারিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্যামেরা পর্যবেক্ষণেও দায়িত্বশীলতার অভাব দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে। সচিবালয়ে যত্রতত্র দোকান, অননুমোদিত প্রবেশ, এবং তদবিরকারীদের অবাধ বিচরণ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষত, প্রভাবশালীদের বন্ধু বা আত্মীয়দের জন্য নিয়মিত পাশ ইস্যু না করেই তাদের প্রবেশ করানো হয়। এমনকি রাজনৈতিক তদবিরে দোকান ও হোটেল পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ের একাধিক ভবন পুরোনো এবং বৈদ্যুতিক লাইনের আধুনিকায়ন হয়নি। এতে শর্টসার্কিট এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের গাফিলতি এ সমস্যাকে আরও জটিল করছে। সচিবালয়ের ভেতরে বছরজুড়ে নির্মাণকাজ চলতে থাকে।
এসব নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্টদের যাতায়াতে নিরাপত্তা পাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবহেলা দেখা যায়। এতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। নগর বিশেষজ্ঞ ইকবাল হাবিব বলেন, সচিবালয় একটি কেপিআই (কি-পয়েন্ট ইনস্টলেশন) এলাকা। অথচ সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর নয়। এমন দুর্বল ব্যবস্থাপনা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য লজ্জাজনক। তিনি প্রতিটি ভবনে অগ্নি ঝুঁকি নিরূপণ এবং দোষীদের বরখাস্তের সুপারিশ করেন। সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে, আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন বৈদ্যুতিক লাইনের আধুনিকায়ন অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা নির্মাণকাজে নিরাপত্তা পাস কঠোরভাবে বাস্তবায়ন দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যতদিন পর্যন্ত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েই থাকবে।


