বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি খাতের উন্নয়নে প্রত্যাবাসিত ডলারের নগদায়নের হার বৃদ্ধির দাবি তুলেছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)। সংগঠনটি ব্যাংকগুলোকে রপ্তানি বিলের বিপরীতে প্রত্যাবাসিত ডলারের মূল্য ১১৮ দশমিক ৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দশমিক ৫০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া এক আবেদনে বিএফএফইএ জানায়, বর্তমান ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের ব্যবধানে রপ্তানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ১১৮ দশমিক ৯০ টাকায় ডলার কিনে আমদানি বিল পরিশোধের জন্য ১২৭ টাকায় বিক্রি করছে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বিএফএফইএ-এর আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, বিদ্যুৎ বিলের বৃদ্ধি, প্যাকেজিং খরচ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের চাপে চিংড়ি রপ্তানি খাত সংকটে পড়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে রপ্তানিকারকদের জন্য ডলারের নগদায়ন হার বৃদ্ধি করা জরুরি। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ডলারের ক্রয়-বিক্রয় মূল্যও স্থিতিশীল হবে। বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি খাত স্বাধীনতার পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন, এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
দেশের প্রায় ৫৫টি দেশে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি করে এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে। বিএফএফইএ দাবি করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নগদায়ন হার বাড়ানো হলে রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে। এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এদিকে, মৎস্য চাষিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৮০০ চাষিকে উন্নত চাষপদ্ধতি শেখানোর পরিকল্পনা করছে বিএফএফইএ। এটি রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


