বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর প্রশাসক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় এনবিআর কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেছে। এই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা হয়, যা পোশাক খাতের উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল শুল্ক নীতি, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সম্পর্কিত সমস্যা এবং ব্যবসায়ীদের সম্মুখীন চ্যালেঞ্জগুলি। বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে উদ্যোক্তারা যেসব বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, যেমন কাঁচামালের সংগ্রহ, পরিবহন এবং শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতাগুলি নিয়ে। তারা এনবিআর এর কাছে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং বাধাগুলোর সমাধানে সহায়তা প্রার্থনা করেন।
বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তারা নন-বন্ডেড কারখানাগুলোর জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি দেয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করেন। বর্তমানে, বিধান অনুযায়ী নন-বন্ডেড কারখানাগুলোকে রপ্তানির উদ্দেশ্যে কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য বন্ড লাইসেন্স প্রয়োজন, যা এই কারখানাগুলোর জন্য একটি বড় বাধা। প্রতিনিধি দল এনবিআর চেয়ারম্যানকে জানান যে, এই নিয়মটি সংশোধন করা হলে, স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করা আরও সহজ হবে এবং ব্যবসায়ের গতি বৃদ্ধি পাবে।এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জানান যে, তিনি এই বিষয়টির সমাধান অনুসন্ধানে কাজ করবেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নন-বন্ডেড কারখানাগুলোর জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা চালু করার বিষয়ে এনবিআর ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
এছাড়া, বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল এনবিআরকে অনুরোধ করেন যে তারা তৈরি পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য কাস্টমস সংক্রান্ত নীতিগুলোর সহজীকরণ এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামগুলোর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া দ্রুততর করার ব্যবস্থা নিক। এনবিআর চেয়ারম্যান এই দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের পরিষেবাগুলো আরও দ্রুত, সময় সাশ্রয়ী এবং দক্ষ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


