বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইপিএ) সই করতে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার চতুর্থ দফা বৈঠক আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
এ বছরের ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম এধরনের চুক্তি। ইতিমধ্যে দুই দফা আলোচনা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যথাক্রমে মে এবং নভেম্বর মাসে।
রফিকুল আলম জানান, এই চুক্তির আওতায় ২১টি প্রধান অধ্যায়ের ওপর আলোচনা চলছে, যার মধ্যে রয়েছে- পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, উৎপত্তির নীতিমালা, শুল্ক প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সহজীকরণ, স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা, সরকারি ক্রয়, প্রতিযোগিতা নীতি, ই-কমার্স, বিনিয়োগ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং জাপান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ এই চুক্তির মাধ্যমে তার বাণিজ্যিক সুযোগ এবং বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, বিশেষ করে পোশাক, চামড়া ও খাদ্যখাতে। এর পাশাপাশি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অন্যান্য শিল্প খাতে জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
এছাড়া, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে সম্পর্ক আরও নিবিড় হওয়ার পাশাপাশি দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় হবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।


