বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ১১৬ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৩,৯২০ কোটি টাকা, ঋণ অনুমোদন করেছে। এই ঋণটি দেশের স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন পরিষেবা উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অফ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরস এই ঋণ অনুমোদন দেয়, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়ক হবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক বলেছেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ এবং একে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এই ঋণ দেশটির স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য পদক্ষেপ নেবে। এর মাধ্যমে, বাংলাদেশের জনগণ উন্নত স্বাস্থ্য, পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধা পাবে, যা টেকসই উন্নয়নকে সহায়ক করবে।
বিশ্বব্যাংক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এই অর্থায়ন প্রদান করবে। প্রথমত, ‘সেকেন্ড বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ক্রেডিট’ এর মাধ্যমে সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পটি দেশের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জলবায়ু-সহনশীল খাতগুলোর উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে।
দ্বিতীয়ত, ৩৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ‘স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালু হবে, যা সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেবা পাবে, বিশেষত মা ও নবজাতক মৃত্যুহার কমানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
তৃতীয়ত, ২৮ কোটি ডলারের ‘চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের এক লাখ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি এবং উন্নত স্যানিটেশন সেবা সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পটি চট্টগ্রামের নিম্ন-আয়ের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষের জন্য পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবে।
এই ঋণ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


