দেশে আমন মৌসুমে ধান উত্তোলন শুরু হলেও চালের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারি ঘোষণার পর শুল্কমুক্ত চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং গত দুই সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা এবং বস্তাপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বিভিন্ন মোকাম, বন্দর এবং আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মিনিকেট, বিআর-২৮, স্বর্ণাসহ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। দিনাজপুরের বাহাদুর বাজার, কুষ্টিয়ার খাজানগর, চট্টগ্রামের পাহাড়তলি ও ঢাকার কারওয়ান বাজারে চালের নতুন দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছে।
কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজি ৭২-৭৪ টাকা, কাজললতা ৭০ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা ৫৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামে কাটারি চালের দাম ৭৬ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাজারগুলোতেও মিনিকেট ও নাজিরশাইলের দাম যথাক্রমে ৭২-৮০ ও ৭৬-৮৫ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও কিছু আড়তদারের মজুতের কারণে বাজারে ধানের সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ধানের মূল্য কেজিপ্রতি ৪৭ টাকা হলেও উৎপাদন খরচ ৫২ টাকার ওপরে। ফলে তারা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী নন।
শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা অনুযায়ী ভারত থেকে বেনাপোল এবং ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যথাক্রমে ৩ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন এবং ৩৫ হাজার ৪৩ টন চাল আমদানি হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে দেশীয় বাজারে চালের দামে তেমন প্রভাব পড়েনি।
চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে একাধিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়ার খাজানগরের ১০-১২ জন ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চালের মূল্যবৃদ্ধির এই অস্বাভাবিক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বাজার পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।


