দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারো বাংলাদেশী এক নারী বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন।
পেশাগত জীবনে নুরুন্নাহার নিম্নি পূবালী ব্যাংকের জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। ব্যাংকিংয়ের চেনা ছকের বাইরে তার আরেকটি সত্তা ছিল আজন্ম রোমাঞ্চপ্রিয়। তার এ ঐতিহাসিক অভিযানের মূল স্পন্সরও ছিল কর্মস্থল পূবালী ব্যাংক।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পূবালী ব্যাংক সবসময় তার মানবসম্পদকে প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে। কর্মীদের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশেও সমানভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ব্যাংকটি। নিম্নির এ ঐতিহাসিক সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের জন্য গর্বের এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাসের উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।’
রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে। এ ভূতত্ত্বের ফিল্ডওয়ার্কই বদলে দিয়েছিল তার জীবনের গতিপথ। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়েই পাহাড়ের প্রেমে পড়েন তিনি। চাকরি জীবনে প্রবেশ করেও সে টান কমেনি। একে একে আরোহণ করেছেন ভারত, ভুটান ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের উঁচু সব পাহাড়ে। নিম্নি বলেন, ‘আমার বিশ্বাসই আমাকে শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। যাত্রাপথে বেশ কয়েকবার মনোবল হারালেও ইচ্ছাশক্তি কখনো দমতে দিইনি। মনোবল, অধ্যবসায় ও সাধনা থাকলে যেকোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে দ্বিতীয় নারী হিসেবে সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পর তৃতীয় বাংলাদেশী নারী হিসেবে নুরুননাহার নিম্নি বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করলেন।


