বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শ্বেতপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে প্রায় ১,১৪,০০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে অতিরিক্ত উপাদান যোগ, জমির দাম বাড়িয়ে এবং ক্রয় ক্ষেত্রে হেরফের করে মোট ১,৯৫,০০০ কোটি টাকায় সংশোধিত করা হয়। শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়েছে যে, গত ১৫ বছরে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ব্যয় হয়েছে ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি, এবং এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থই আমলারা এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা সরকারের শাসনামলে ঘটিত অর্থপাচারের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, এসব দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার জন্য দ্রুত বিচারকাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অস্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অধ্যাপক এ কে এনামুল হক বলেন, “এডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থ আমলাদের দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হলে দেশ আরও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারত।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে এসব প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপব্যয় এবং লুটপাট হয়েছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ কোনো সুবিধা পায়নি।”
কমিটির আরেক সদস্য মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান, “দেশের কর অব্যাহতির পরিমাণ ছিল মোট জিডিপির ৬ শতাংশ, যা অনেক বেশি। যদি এটি অর্ধেকেও নামিয়ে আনা যেত, তাহলে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় তিনগুণ করা সম্ভব ছিল।”
এছাড়া, আরেক সদস্য এম. তামিম জানান, “বিদ্যুৎ খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হলেও, তার মধ্যে ১০ শতাংশ অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পাচার হয়েছে, যার পরিমাণ কমপক্ষে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।”
শ্বেতপত্রে এসব দুর্নীতির পরিণতি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণের পর আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। বিশেষজ্ঞরা এই দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।


