ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট আদানির বিদ্যুৎ চুক্তিগুলোর পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে। আদালত এই চুক্তিগুলোর ব্যাপারে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে।
এই চুক্তিতে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরের রুট দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি, যেটি শুল্ক স্টেশন হিসেবে চিহ্নিত নয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, আদানি গ্রুপের এই আমদানিতে শুল্ক বা কর মওকুফের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এছাড়া, কয়লার দাম বাড়ানো, বিল পরিশোধে দেরি হওয়া, অতিরিক্ত সুদ আরোপ ইত্যাদি বিষয়েও নানা জটিলতা রয়েছে।
বিপিডি ও আদানি গ্রুপের চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ আমদানির জন্য শুল্ক-মুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি পিডিবির দায়িত্ব, তবে পরবর্তীতে শুল্ক-বিল সংক্রান্ত কোনো বিষয় আসলে তা বিপিডিবির উপর চাপানো হবে। এই চুক্তিতে উল্লেখ করা আছে যে, বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বছরে ১৫ শতাংশ সুদ আরোপ করা হবে। যা অত্যন্ত উচ্চ সুদ বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া, ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ঝাড়খণ্ডের পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয় পিডিবির সঙ্গে। কিন্তু চুক্তির সময় আদানি গ্রুপ কর মওকুফের বিষয়টি গোপন করেছে এবং কয়লার দামও অতিরিক্ত রেখেছে। ২০১9 সালে ভারত সরকার এই পাওয়ার প্ল্যান্টকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে এবং সেখানে কর ছাড় দেয়া হয়, যা বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির সময় জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম মন্তব্য করেছেন যে, পিডিবি এ চুক্তি করার সময় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ব্যাপারে যথাযথভাবে খতিয়ে দেখেনি। চুক্তির সমস্ত শর্ত ও বিষয় জনসমক্ষে আনার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


