যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের এক নতুন ধারায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ফক্স নিউজের প্রখ্যাত উপস্থাপক পিট হেগসেথকে মনোনীত করেছেন। এটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে শক্তি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন একটি অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে বারবার বলেন, ‘আমরা সবার আগে আমেরিকার শক্তি বৃদ্ধি করব, যেন কোন শত্রু আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস না পায়।’ পিট হেগসেথ, যিনি আগে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন এবং ফক্স নিউজে তার সংবাদ উপস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তার এই দায়িত্বে আসা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
পিট হেগসেথের বিষয়ে ট্রাম্প তার এক বিবৃতিতে বলেন, “পিট এক নিবেদিত দেশপ্রেমিক, যার নেতৃত্বে আমাদের সেনাবাহিনী শক্তিশালী হবে এবং আমাদের শত্রুরা কখনোই সফল হতে পারবে না।” পিটের সামরিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করেছে বলে ট্রাম্প অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া, ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জন র্যাটক্লিফকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (CIA) নেতৃত্বে মনোনীত করা হচ্ছে। এই পদে তাকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প তার গোয়েন্দা ব্যবস্থায় শক্তিশালী নেতৃত্ব আনতে চাচ্ছেন। ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, আরকানসাসের সাবেক গভর্নর মাইক হাকাবিকে ইসরাইলে রাষ্ট্রদূত এবং তার দীর্ঘদিনের বন্ধু স্টিভেন উইটকফকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এদিকে, ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি অর্জন’ নীতি, যা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি অন্যতম মূল উপাদান, তা আবারও আলোচনায় এসেছে। এই নীতি অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যুদ্ধের সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করবে। এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষদের একটি পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয় যে, আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। এই নীতি সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সময় থেকেই আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির একটি মূল ভিত্তি ছিল।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা নীতিতে কেমন পরিবর্তন আসবে, সেটি এখন বিশ্বের নজর কাড়ছে।


