বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি দেশে পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্কতা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি জানান, পুঁজিবাজারের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে প্রকাশিত এসব গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে শেয়ারবাজার সম্পর্কিত পূর্বাভাস ও ভবিষ্যদ্বাণী করা কিংবা অপ্রকাশিত তথ্য প্রকাশ করা আইনগত দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের অপ্রমাণিত তথ্য ছড়ানো বা গুজব প্রচার করলে তা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিএসইসি উল্লেখ করেছে যে, গবেষণা ও বিশ্লেষণ ছাড়া পুঁজিবাজার সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচার আইনের বিরুদ্ধে যাবে এবং এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুঁজিবাজারের বিষয়ে গবেষণা ও পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বিএসইসি ২০১৩ সালের “গবেষণা ও অ্যানালাইসিস আইন” অনুসরণ করে। এ আইনের অধীনে শুধুমাত্র একজন সনদপ্রাপ্ত রিসার্চ অ্যানালিস্টই বৈধভাবে পুঁজিবাজার সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারেন।
বিএসইসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও যোগ করেছে, যে ব্যক্তিরা পুঁজিবাজার সম্পর্কিত গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে যেসব ব্যক্তিরা মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএসইসি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য একটাই—দেশের পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, বিনিয়োগকারীরা যেন এসব গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কে সঠিক তথ্যের জন্য বিএসইসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুসরণ করেন। বিএসইসি এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং পুঁজিবাজারের সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপোস করবে না।


