জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংবিধান সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান আলী রিয়াজ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিবর্তে লিখিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধানের সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আলী রিয়াজ বলেন, “গণঅভ্যুত্থানকে অগ্রাহ্য করে সংবিধান প্রণয়ের সুযোগ নেই। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান গুরুত্বপূর্ণ এবং এর ভিত্তিতে সংবিধানের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হবে।” তিনি এই কমিশনের সদস্যদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংবিধানের বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, তাই তাদের অভিজ্ঞতাহীন বলা উচিত নয়।
কমিশন চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সংসদের মেয়াদ হবে চার বছর, এবং এ সময় এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরই মধ্যে তিনি সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্দেশ্যগুলোও প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা। এছাড়াও, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আলোকিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও লক্ষ্য রাখা হবে।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার উত্থান রোধ, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ— নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ। কমিশনটি রাষ্ট্র ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকেন্দ্রীকরণ এবং পর্যাপ্ত ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এছাড়া, রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক এবং আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য কমিশন তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং জনগণের মতামতের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানান আলী রিয়াজ।


