বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন মাসের মাথায়, গত ২৯ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং দুই কমিশনার জহুরুল হক ও মোছা. আছিয়া খাতুন পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে, এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ১০(১) ধারার আওতায় তারা পদত্যাগ করেছেন। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার সকালে তারা অফিসে এসে দাপ্তরিক কাজ করেন, তবে দুপুরের দিকে একটি বৈঠক স্থগিত হওয়ার পর তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, তারা পদত্যাগের পর নীরবে কমিশনের কার্যালয় ত্যাগ করেন।
মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ২০২১ সালের ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান, এবং তার সাথে কমিশনার জহুরুল হকও দায়িত্ব নেন। আছিয়া খাতুন কমিশনার হিসেবে পরে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন শুরু হয়। এ প্রেক্ষাপটে দুদক সংস্কারের দাবিও উঠে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান শেষে আন্দোলনকারীরা দুদকের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে, যা কমিশনের অভ্যন্তরে আলোচনার সূচনা করে।
দুদক, গত কয়েক মাস ধরে সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলেও, সেইসব কার্যক্রম লোক দেখানোর বলে অভিযোগ উঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দুদকের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন এবং সংস্থাটির পুনর্গঠনের তাগিদ দেন।
পদত্যাগের পর, দুদক কর্মকর্তারা জানান যে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য শিগগিরই একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন যে নতুন কমিটি নামের তালিকা প্রকাশ করবে এবং কমিশনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
দুদকের অভ্যন্তরে কর্মকর্তারা বলছেন, বিদায়ী চেয়ারম্যান ও কমিশনার সরকারের চাপের কারণে কমিশনকে বিতর্কিত করে ফেলেছেন। সঠিকভাবে তদন্ত চালাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, যা তাদের পদত্যাগের অন্যতম কারণ হতে পারে।
চairman ও কমিশনারের পদত্যাগের ফলে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দুদকের কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে তা এখন অপেক্ষার বিষয়। নতুন কমিশন কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেটাই এখন দেখার।


