২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত এক বিশাল ছাত্র আন্দোলন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আন্দোলনটি মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করে। শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পুনর্বহাল এবং ৫৬ শতাংশ কোটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। তাদের দাবি ছিল, এই কোটা ব্যবস্থা দেশের মেধাবী এবং যোগ্য প্রার্থীদের জন্য চাকরির পথকে সংকুচিত করছে।
ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পর আন্দোলনটি আরও বড় আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীরা তখন কেবল কোটা সংস্কার নয়, বরং প্রশাসনিক দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতেও সোচ্চার হন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে মোতায়েন করে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টা শুরু করা হয়। এর ফলস্বরূপ বহু নিরীহ শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনকারীর মৃত্যু ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন।
লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানান। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আইসিসির রোম স্ট্যাটিউটের ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যারিস্টার আরেফিন দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের উদাহরণ এবং এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত।
এই মামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছে।


