যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবানন থেকে প্রথম দফায় ৫৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৭ শিশু রয়েছে এবং তারা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দেশে এসেছেন। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জেদ্দা হয়ে তারা দেশে ফিরেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, প্রবাসীরা ২০ অক্টোবর রাতে বৈরুতের রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে রওনা দেন এবং পরে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর সময় নির্ধারিত ছিল সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসীরা ভিসা প্রক্রিয়ার অর্ধেক ফি পরিশোধ করে দেশে ফিরতে পারবেন, যার জন্য জেনারেল সিকিউরিটি দপ্তরে ৫৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে। লেবানন সরকার অবৈধ প্রবাসীদের জরিমানা মওকুফ করে দিয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, লেবাননে বাংলাদেশের প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার থেকে এক লাখ। এর মধ্যে ১,৮০০ জন দেশে ফেরার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। রেজিস্ট্রেশন করা ১৬৭ জনের লিগ্যাল ডকুমেন্টস রয়েছে, এবং বাকি ১,৬২৩ জন আনডকুমেন্টেড।
আইওএম ২০০ জনকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ফেরত আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য প্রবাসীদের জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে, এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০ জনের মতো দেশে ফিরতে পারবেন। দ্বিতীয় দফায় ২২ অক্টোবর ৫৮ জন বাংলাদেশির দেশে ফেরার আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারের উদ্যোগে প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে প্রথম দফায় ৫৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।


