দেশের পোশাক শিল্পে অস্থিরতা ও সংকট মোকাবিলায় সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ঘোষণা করেছেন যে রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে। বিজিএমইএ ভবনে শনিবার এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
আদিলুর রহমান খান বলেন, কোনো কারখানায় যদি অস্থিরতা দেখা দেয়, সরকার তা মোকাবিলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ যদি দেশীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে কারখানা বন্ধ রাখার চেষ্টা করে, সেটাও কঠোরভাবে দেখা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে পোশাক শিল্পে অস্থিরতা, শ্রমিক বা মালিক কারোরই কাম্য নয় এবং সংঘাতময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তৃতীয় পক্ষের কার্যক্রম হতে পারে, যা কারোরই লাভজনক হবে না।
অপরদিকে, বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম কিছুটা ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় আগামীকাল সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে। তবে, যদি কোনো কারখানায় অস্থিরতা দেখা দেয়, তাহলে ওই কারখানা শ্রম আইনের ধারা ১৩/১ (কাজ নেই, বেতন নেই) অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের উন্নতির ফলে শ্রমিকেরা তাদের দাবিগুলি প্রকাশ করছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ সমাধানে একটি শ্রমসংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যা সব অভিযোগ ও দাবি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে, শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কিছু ষড়যন্ত্রের উপাদানও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া, শ্রমিকদের জন্য একটি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং গত বছরের শেষের দিকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সময় যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু, যারা এসব প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন আসিফ মাহমুদ।
এই সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা এবং শ্রমিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


