সুবর্ণ বড়ুয়া সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২৭ আগস্ট মঙ্গলবার, ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তার পদত্যাগের খবর ফাইনান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রি ডেটাবেস (এফআইডি) সূত্রে জানা গেছে।
সুবর্ণ বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত। তার অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিন বছরের জন্য আইসিবির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান সুবর্ণ বড়ুয়া। তার আগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কিসমাতুল আহসান এই পদ থেকে সরে গিয়ে সুবর্ণ বড়ুয়াকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
সুবর্ণ বড়ুয়ার কর্মজীবন উজ্জ্বল এবং বিভিন্ন স্তরে স্বীকৃত। তিনি অর্থনীতি ও ফাইন্যান্স বিষয়ে দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষাদান করেছেন এবং ফাইন্যান্সিয়াল মডেলিং, ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট, ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। তার কাজের পরিধি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত; তিনি বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি এবং ডিএফআইডি এর অর্থায়নে বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন।
এছাড়াও, সুবর্ণ বড়ুয়া দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানির পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। তার কাজের ক্ষেত্রটি বিভিন্ন নীতিমালা এবং আর্থিক কৌশলকে সামনে রেখে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেছে। তার নেতৃত্বে আইসিবি একধরনের গুণগত মান অর্জন করেছিল যা বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই প্রেক্ষিতে, সুবর্ণ বড়ুয়ার পদত্যাগ আইসিবির জন্য একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের চিহ্ন বহন করে। যদিও তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন, তবুও তার চলে যাওয়ার পর আইসিবি কীভাবে নতুন নেতৃত্বে পরিচালিত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ এই পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা নির্ধারণ করবে।
সুবর্ণ বড়ুয়ার অবদান এবং কাজের স্বীকৃতি তার অধ্যাপনা, প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ কার্যক্রমের মাধ্যমে সুস্পষ্ট। তার বিদায়ের পর, আইসিবি এবং তার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও পরিচালনা কিভাবে এগিয়ে যাবে তা দেখার বিষয় হবে।


