এখন ৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি নতুন শেয়ার বিক্রি করে মূলধন বাড়াতে এবং এসএমই প্ল্যাটফর্ম নামে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারছে। গত চার বছরে ১৫ কোম্পানি এ প্রক্রিয়ায় শেয়ার বিক্রি করে ১৬২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই-ডিএসই নামে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মে গত মঙ্গলবার ৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। মূলধন সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত হওয়া ১৫ কোম্পানি ছাড়াও অধুনালুপ্ত ওটিসিভুক্ত পাঁচ কোম্পানিও এ বাজারে নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আরও আট কোম্পানি কিউআইও প্রক্রিয়ায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহের আবেদন করেছে, যা এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বিবেচনাধীন।
২০১৬ সালে আইন করার আগে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার কম হলে শেয়ারবাজার থেকে কোনো কোম্পানির মূলধন সংগ্রহ বা তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। আইনি দুর্বলতা কাটাতে ওই বছর ‘কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টরস অফার ফর স্মল কোম্পানিজ’ নামে পৃথক বিধিমালা করার পাশাপাশি বিধি-বিধান করে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এরপর দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এসএমই কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনাবেচার পৃথক প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করে। ২০২১ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয় এ বাজারের।
প্রথাগত প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত না হয়েও স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা বা হস্তান্তরের জন্য ২০১৯ সালে পৃথক আইনি বিধান করে অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বা বিকল্প শেয়ারবাজারও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোনো কোম্পানির মালিক বা শেয়ারহোল্ডাররা তালিকাভুক্ত না হয়েও সহজে শেয়ারবাজার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শেয়ার হস্তান্তর বা কেনাবেচা করতে পারবেন। এটিবিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ নামে ব্রোকারেজ হাউস।
২০২৩ সালে এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্ত হয়েছে এগ্রো অর্গানিকা, এমকে ফুটওয়্যার ও আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস। চলতি বছর এখন পর্যন্ত শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হয়েছে ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এবং ওয়েব কোস্টস।
এর বাইরে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি বাজার বিলুপ্ত করে শর্ত পূরণসাপেক্ষে পাঁচ কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। এগুলো হলো– ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস, এপেক্স ওয়েভিং, বেঙ্গল বিস্কুটস, হিমাদ্রি লিমিটেড এবং ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজ।
এখন আরও আট কোম্পানি এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে কিআইও প্রক্রিয়ায় শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কোম্পানিগুলো হলো– উরো এগ্রোবেট, পার্কওয়ে প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ব্রেইন স্টেশন ২৩, আই-মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, ডরিয়া শিপিং, এফএম প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলা ট্রাক রেন্টাল সার্ভিসেস ও দুয়ার সার্ভিসেস।
ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজিএম সাত্ত্বিক আহমেদ খান বলেন, আগে আইপিও প্রক্রিয়া ছাড়া মূলধন সংগ্রহের কোনো সুযোগ ছিল না। আইপিও আবেদনের জন্য অন্তত ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকার পাশাপাশি নতুন করে অন্তত ১৫ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা ছিল। এখন এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এখন ৫ কোটি টাকা বা তার বেশি পরিশোধিত মূলধনি কোম্পানির শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ এবং তালিকাভুক্তির সুযোগ আছে। এ বিষয়ে কোনো কোম্পানির আগ্রহ থাকলে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে এ প্রক্রিয়া বিষয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রচলিত অর্থে মূল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও এটিবি নামে বিকল্প শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। শেয়ারবাজারের বাইরে হাজার হাজার নিবন্ধিত কোম্পানির মালিক অনেক সময় নতুন অংশীদার নিতে শেয়ার বিক্রি করে। আবার বিদ্যমান শেয়ার অন্যদের কাছে বিক্রি করতে আরজেএসসির-১১৭ নামে ফরম পূরণ করে শেয়ার হস্তান্তর করে। প্রতিবার ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সশরীর হাজির হয়ে শেয়ার কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এটিবি বাজারভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এ জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া যাচ্ছে। চাইলে এটিবিতে যুক্ত হয়ে শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর সবই করা যাচ্ছে।


