Monday, July 6, 2026
Home জাতীয় ইনক্রিমেন্টের নিয়ম বদলে যাচ্ছে নতুন পে স্কেলে, গ্রেডভেদে বেতন বাড়বে যে হারে

ইনক্রিমেন্টের নিয়ম বদলে যাচ্ছে নতুন পে স্কেলে, গ্রেডভেদে বেতন বাড়বে যে হারে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে। যদিও এখনো এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। এদিকে নতুন পে-স্কেলের প্রাথমিক খসড়ায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানের মতো সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে এবার গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা, বেতন কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও আসছে পরিবর্তন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারির কার্যক্রম আরও পিছিয়ে যেতে পারে। ঠিক কতদিন বিলম্ব হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ধারণা, গেজেট প্রকাশে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে নবম পে-স্কেলের প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারিত থাকবে। বর্তমানে সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর রয়েছে।

সূত্র জানায়, ইনক্রিমেন্টের নতুন কাঠামো নির্ধারণের আগে সরকার সারা দেশে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ জন সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মতামত সংগ্রহ করে। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মনে করেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা উচিত।

এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল বেতনের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি হওয়া উচিত।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব থাকলেও সেটি কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইভাবে সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতা কমিশনের প্রস্তাবিত ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কয়েকটি ভাতার হার কিছুটা কমানো হচ্ছে। তবে বর্তমানের তুলনায় এসব ভাতা বেশি থাকবে। সব ধরনের ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতনের শতভাগ দেওয়া হবে। পরবর্তী অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হবে।

সরকারের জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যোগ করে তার মোট বেতন-ভাতা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের সম্ভাব্য মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে ভাতাসহ মোট বেতন-ভাতা বেড়ে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হবে।

একইভাবে ১৯তম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ভাতাও বৃদ্ধি পাবে। তবে সমতা ও যৌক্তিকতা বজায় রাখতে উচ্চ গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হচ্ছে। কারণ যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকিভাতাসহ কিছু ভাতা কেবল ১০ম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। এ কারণে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক এক ভিডিও বার্তায় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নবম পে-স্কেলে প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করা হোক।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা হতাশাগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পেরে বিশেষ করে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা চরম সংকটে রয়েছেন। অধিকাংশ কর্মচারীই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। ১১ বছর পর দুটি পে-স্কেল পাওয়ার সময় অতিক্রম হওয়ার পর সেই দুটি পে-স্কেলের সমন্বয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে তারা সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছিলেন।

আব্দুল মালেক বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের পর সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা প্রস্তাব করে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন সেই প্রস্তাবকে সম্মান জানিয়েছে। তিনি বলেন, এ সংগঠনটি ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী পরিবারের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরছে।

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ বছর পর যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে, সেখানে প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা মূল বেতন একবারেই পরিশোধ করা হোক। কারণ মূল বেতন কিস্তিতে বা ভাগ করে দেওয়া হলে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হবে এবং এতে সরকারি কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবারের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অভিযোগ এবং ন্যায্য মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হলেন আনিছুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান। সরকার তাকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ দায়িত্ব...

মিরপুরে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বরে অবস্থিত সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের একটি ভবনের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৮টা ২ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর...

মন্ত্রীদের বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় তহবিলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রীদের প্রতি প্রতি মাসের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজেও নিয়মিতভাবে নিজের বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয়...

ইনফোসিস ফিন্যাকল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডসে ‘ম্যাক্সিমাইজিং কাস্টমার এনগেজমেন্ট’ ক্যাটাগরিতে গোল্ড জিতল কমিউনিটি ব্যাংক

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যাংকিং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক স্বীকৃতি Infosys Finacle Innovation Awards 2026-এ ‘Maximizing Customer Engagement’ ক্যাটাগরিতে গোল্ড উইনার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক...

Recent Comments