দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই স্বল্পমেয়াদে অন্য কোনো খাতই এ শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় খাতটির অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
তিনি জানান, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সব সেবা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে অনলাইনে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।
বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বাড়বে, জাহাজের অপেক্ষার সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে। ফলে রফতানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে পারবেন।’
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৫৫০-৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক পোশাক শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিজিএমইএর সদস্য কারখানাগুলোকে পোশাক খাতের নারী কর্মীদের এইউডব্লিউর ‘মাস্টার অব সায়েন্স ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট’ প্রোগ্রামে স্পন্সর করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই এইউডব্লিউর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ তিনি সদস্য কারখানাগুলোকে নারী কর্মীদের উচ্চশিক্ষায় স্পন্সরশিপ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমেদ; ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং; এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, দেশী-বিদেশী ব্র্যান্ডের প্রতিনিধি, পোশাক উদ্যোক্তা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


