আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়াতে এবং কর ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণে মুদি দোকান, মিষ্টির দোকান, বিউটি পার্লার ও রেস্টুরেন্টসহ ১৬টি ব্যবসা খাতকে ভ্যাটের নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনের বৈঠকে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় এবং নতুন খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং কর নেট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কয়েকটি খুচরা ও সেবাভিত্তিক ব্যবসাকে নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিক গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতা, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও স্যানিটারি ব্যবসা, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের ব্যবসা, রড ও সিমেন্ট বিক্রেতা, ফার্নিচার ব্যবসা, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং রেস্টুরেন্ট।
সরকারের মতে, এসব খাতকে ভ্যাটের নির্দিষ্ট কর কাঠামোর আওতায় আনা গেলে কর প্রশাসন আরও সহজ হবে এবং রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নীতিমালা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।


