জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, কাগজে-কলমে বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হলেও রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এর ফলে চাল, ডালসহ কিছু প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে বাজেটের সামগ্রিক কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সীমিত আয়ের একজন ব্যক্তির পক্ষে যেমন বিশাল ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন, তেমনি রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা না বাড়িয়ে বিপুল অঙ্কের বাজেট বাস্তবায়নও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রতিষ্ঠানটি সংগ্রহ করতে পেরেছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা বাস্তবসম্মত, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজস্ব ঘাটতি বাড়লে সরকারের ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ এবং বেকারত্বের বিষয়ও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তাঁর মতে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো ছাড়া অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বাজেট বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।


