রাজধানীতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গণশুনানিতে ভোক্তা প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের তীব্র আপত্তির মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজনে দুই দিনের শুনানির প্রথম দিনে নানা পক্ষ তাদের মতামত তুলে ধরে।
শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। এতে কমিশনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহক পর্যায়ে ১৪ থেকে প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা পড়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অপচয় ও দুর্নীতি চললেও তার দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। তারা বলেন, জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে বারবার মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে সংকট বাড়াবে। কয়েকজন বক্তা বিদ্যুৎ উৎপাদনে উচ্চ ব্যয়, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকেও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা দাবি করেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানির খরচ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ শুনানি স্থগিত করে নতুন করে ব্যয় পর্যালোচনার দাবি জানান।বিইআরসি জানিয়েছে, সব পক্ষের মতামত ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।


