দেশে কার্যক্রম চালানো একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের স্থানীয় জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বৈধ লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকির সুযোগে এসব প্রতিষ্ঠান শত কোটি টাকার টিকিট ও কার্গো বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৬টি জিএসএ প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ওই অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রি, কার্গো বুকিং এবং বৈদেশিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে।
এ তালিকায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন জনপ্রিয় এয়ারলাইন্সের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, এয়ার এরাবিয়া, ক্যাথে প্যাসিফিক, জাজিরা এয়ারওয়েজ ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের স্থানীয় জিএসএ প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখযোগ্য।
এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জিএসএ লাইসেন্স কেবল ব্যবসায়িক অনুমোদন নয়; এটি আর্থিক জবাবদিহি, যাত্রী সুরক্ষা ও বৈদেশিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত কার্যক্রমে প্রতারণা, টিকিট জালিয়াতি কিংবা অর্থ আত্মসাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচার বা অবৈধ ডলার লেনদেনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাত্রীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে বা টিকিট রিফান্ড জটিলতা তৈরি হলে যাত্রীরা আইনি সহায়তা পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন। কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে তারা জানান। একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট সাধারণত অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হয়। কিন্তু লাইসেন্সের বৈধতা না থাকলে সেই এজেন্টের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত বিষয়টির সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, তারা সময়মতো লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনুমোদন প্রক্রিয়া আটকে আছে। অন্যদিকে বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক কারণে বিলম্ব হলেও দ্রুত লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে লাইসেন্স ছাড়া অনিয়মিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।


