সাবেক পাসপোর্ট কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বিপুল সম্পদ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ছেলে আল মুক্কাবির ইসলাম অর্ণবের মৃত্যু। গত ২ মে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি ভবনের নিচ থেকে অর্ণবের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।
রফিকুল ইসলাম একসময় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরিকালীন সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি। তবে বয়স জালিয়াতির অভিযোগে চাকরি হারানোর পর দুর্নীতির মামলায় কারাবরণ করতে হয় তাকে। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে বলে জানা গেছে।
স্বজনদের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর অর্ণব পৈতৃক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে চাচা ও কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সম্পত্তি বিক্রি ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাপা বিরোধ চলছিল। এ কারণে মানসিক চাপেও ছিলেন তিনি।
পরিবারের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, অর্ণবের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাদের ধারণা, সম্পদের বিরোধ থেকেই তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে, কিংবা পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা অর্ণবের মোবাইল ফোন, ব্যাংক হিসাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজে অর্ণবকে ঘটনার আগে একাই ভবনের ছাদে উঠতে দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিললেও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


