জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনে সরকারের ধীরগতির সমালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।
‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায়কে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তারা অভিযোগ করেন, গণভোটে বিপুল সমর্থন পাওয়ার পরও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম বলেন, জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টেকসই হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রেও জনগণের রায়ই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। তাই একই জনগণের দেওয়া অন্য একটি রায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখানো যুক্তিসঙ্গত নয়।
বক্তারা আরও বলেন, সংবিধানের সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে গণভোটের ফলাফল বিলম্বিত করা হলে তা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী হবে। তারা মনে করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেন, সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়লে জনঅসন্তোষ বাড়তে পারে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারা বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সংসদে এখনো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়নি। তারা দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, লেখক, তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট এবং জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ অধিবেশন চলমান থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মসূচি শেষ করা হয়। আয়োজকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায়ে অগ্রগতি না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।


