সংসদে দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফজলুর রহমান বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না”— এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের মন্তব্য অসংসদীয় ও বিভ্রান্তিকর। বুধবার সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল মো. তাজিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে ফজলুর রহমানের বক্তব্য দায়িত্বশীল হয়নি। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক অবস্থান একরকম ছিল না। অনেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছেন। জিয়াউর রহমান-এর আহ্বানে যুদ্ধ করা বহু মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তীতে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে সম্পৃক্ত হন। কেউ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেউ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, আবার কেউ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এ যোগ দেন। একইভাবে, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছু মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-তেও যুক্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটির মতে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ব্যক্তির রাজনৈতিক পছন্দ তার নাগরিক অধিকার। কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দিয়ে দেশপ্রেম বা মুক্তিযুদ্ধের অবদান মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।এদিকে বিবৃতিতে ফজলুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের এক মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব বিন হায়দারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।


