মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বাংলাদেশ। সরকার জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা ও সরবরাহ ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আগেই বিকল্প উৎস খোঁজার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় এবং এখন সেই প্রচেষ্টায় অগ্রগতি দৃশ্যমান।
তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং আমদানি নির্ভরতা ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত তৈরি হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বও বাড়বে।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, ভারতে গ্রেফতার হওয়া একটি হত্যা মামলার দুই আসামির বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো কনস্যুলার অ্যাক্সেস পায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা সরকারের অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যাবর্তন নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে এসব বিষয় সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে। কোনো প্রবাসী দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।


