বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার-এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বালিয়াড়ি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সৈকতের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার রাজধানীতে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বালিয়াড়ি প্রাকৃতিকভাবে গঠিত একটি সংবেদনশীল প্রতিবেশ ব্যবস্থা, যা সমুদ্রের ঢেউ ও ঝড় থেকে উপকূলকে সুরক্ষা দেয়। এসব স্থানে স্থাপনা নির্মাণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। তাই বালিয়াড়িতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যারা বালিয়াড়ি দখল করে ব্যবসা বা স্থাপনা গড়ে তুলেছে, তাদের উচ্ছেদ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশবিদরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বালিয়াড়ি সংরক্ষণ করা গেলে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন শিল্প দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু উন্নয়ন নয়, টেকসই উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কক্সবাজারকে একটি পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা জরুরি। এজন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


