সৌদি আরবের সঙ্গে সময় মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার অন্তত চারটি গ্রামের কিছু মানুষ শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। সকালেই ঈদের জামাত আদায় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তারা উৎসব পালন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার ছিয়াত্তরবিঘি গ্রামে সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একটি আম বাগানে আয়োজিত এই জামাতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা ইউসুফ আলী। জামাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার রাধানগর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের মোমিনটোলা ও বাগানপাড়া এলাকাতেও পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব স্থানে অংশগ্রহণকারী মুসল্লির সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এসব এলাকায় একটি অংশ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে। চাঁদ দেখার পদ্ধতিতে ভিন্নমতের কারণে তারা এই রীতি অনুসরণ করেন। প্রতি বছরই নির্দিষ্ট কিছু পরিবার ও মুসল্লি আগাম ঈদ উদযাপনে অংশ নেন, অন্যদিকে অধিকাংশ মানুষ জাতীয় চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ পালন করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, এ জেলায় বহু বছর ধরেই এমনটি হয়ে আসছে। তবে এটি সীমিত পরিসরে হয় এবং সাধারণত গ্রামের একটি অংশই এতে অংশ নেয়। তিনি আরও জানান, ধর্মীয় বিধান মেনে দেশব্যাপী ঐক্য বজায় রেখে ঈদ উদযাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আগাম ঈদ উদযাপন ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও ভিন্নমাত্রার উৎসবের আবহ তৈরি হলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


