২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, প্রথম বাজেটেই সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের স্পষ্ট বার্তা থাকতে হবে।
কর্মকর্তারা জানান, বাজেট প্রণয়নে এমন কাঠামো নেওয়ার কথা বলা হয়েছে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নীতিগত স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতিগুলো প্রতিফলিত হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সভায় দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি কৃষিঋণ মওকুফ, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য সহায়তা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও অর্থ বরাদ্দের চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, এক বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত দ্রুত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হবে। তাদের মতে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব নয়, তবে করজাল সম্প্রসারণ, ফাঁকি রোধ এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটই আগামী পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে। বাজেটকে ঘিরে প্রশাসনে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।


