দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ অঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারের জন্য সুলভমূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশের বহু পরিবার রান্নার কাজে কাঠ, খড়কুটো ও অন্যান্য প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এতে একদিকে বন উজাড়ের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে চুলার ধোঁয়ায় নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই উদ্যোগ গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করে একটি নির্ভুল ডেটাবেজ তৈরি এবং ভর্তুকিপ্রাপ্ত সিলিন্ডারের অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। সরকারি কোম্পানির এলপিজির দাম তুলনামূলক কম হলেও এর সরবরাহ সীমিত। অন্যদিকে বেসরকারি বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকিভিত্তিক এলপিজি কর্মসূচি চালু রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের সরাসরি ভর্তুকি প্রদানের মডেলকে সফল উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশেও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এর সুফল পাবে লাখো নিম্নআmয়ের পরিবার।


