চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষীকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দিনে প্রসিকিউশন পক্ষ সূচনা বক্তব্যে অভিযোগের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে। তাদের দাবি, জুলাই-আগস্টে চলমান আন্দোলনের সময় কারফিউ জারি এবং ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে সমন্বয় করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলন দমন এবং বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, আন্দোলন চলাকালে একাধিক ফোনালাপ ও প্রশাসনিক নির্দেশনার তথ্য-উপাত্ত তদন্তে উঠে এসেছে। এসব প্রমাণ সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতে উপস্থাপন করা হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
একই দিনে ট্রাইব্যুনালের অপর একটি বেঞ্চে আরেকটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিও নির্ধারিত রয়েছে। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গ্রেফতারের পর থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ গঠন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে প্রবেশ করল বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।


