বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টি হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুরে বিএনপির সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌর শহরের বড়বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওই জনসভায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মো. মহসীনের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রকাশ্য প্রচারকালে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার বর্তমান সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাস বাড়বে এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ক্ষমতায় থাকা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতি, অপশাসন ও কর্তৃত্ববাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। এ কারণেই জনগণ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ ছয়টি ইসলামী দল, এনসিপি ও এলডিপিসহ ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে একটি ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করা হবে, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ আবুল বাশার। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশকে ঘিরে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।


