দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণাকে যুগোপযোগী ও ফলপ্রসূ করতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যবস্থাপনাগত সমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তিনি বলেন, গবেষণায় অপ্রয়োজনীয় বৈষম্য জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সোমবার বিকেলে অর্থ বিভাগের সভা কক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার প্রতিপাদ্য ছিল— *‘জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ: সাশ্রয়ী ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান’*।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, গবেষণায় সক্রিয় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান পাওয়ার পর দীর্ঘ প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে জটিলতার মুখে পড়ে। ছয় থেকে আট মাস সময় লেগে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার গতি ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় জবাবদিহিতা বজায় রেখে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
গবেষণা খাতে বিনিয়োগের স্বল্পতা নিয়েও উদ্বেগ জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ জিডিপির মাত্র ০.৩ শতাংশ গবেষণায় ব্যয় করছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত কম। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক আবরার বলেন, সময়মতো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় প্রতিবছর বড় অঙ্কের বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছে, যা কার্যকর পরিকল্পনার অভাবকে নির্দেশ করে। তিনি গবেষণার ফলাফল বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ফিরদৌসী কাদেরীসহ বিশিষ্ট গবেষকরা। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেন।
–


