জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষিত। এর মধ্যে শতাংশের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ৯৪ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বিএনপিতে এই হার ৮১ শতাংশের মতো। প্রার্থীদের মধ্যে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি বা ‘স্বশিক্ষিত’ ৮ শতাংশের ওপরে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত হলেই যে ভালো করবেন—বিষয়টি এমন নয়। বরং তাঁদের মধ্যে দেশ ও মানুষের ভালো করার মানসিকতা এবং সততা থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষিত হলেই সংসদ সদস্যরা ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। অতীতে যাঁরা দুর্নীতি ও ক্ষমতার চর্চা করেছেন, তাঁদেরও বড় অংশ উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। একাডেমিক শিক্ষার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই একাডেমিক সার্টিফিকেট দেখেই কারও যোগ্যতা বিচার করা ঠিক নয়।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১,৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী নিশ্চিত হয়েছে।
তাদের মধ্যে ১,৩৯৮ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত হিসাবে ধরা হয়েছে, যা প্রায় ৭৫.৯ % ≃ ৭৬ % প্রার্থীর সমান।
এর মানে এই নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষিত লোকজন; গত কত সময়ের মধ্যে শিক্ষাগত স্তরকে এমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও বিশ্লেষণাত্মক মন্তব্যও উঠেছে।


