Thursday, July 9, 2026
Home জাতীয় চালু নয় বিদ্যুৎকেন্দ্র তবু চলছেই বিলের পাহাড়

চালু নয় বিদ্যুৎকেন্দ্র তবু চলছেই বিলের পাহাড়

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের পর একের পর এক খাতভিত্তিক দুর্নীতির চিত্র সামনে আসছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য মিলছে বিদ্যুৎ খাতে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে। এতে লাভবান হচ্ছে হাতে গোনা কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আর বাড়ছে রাষ্ট্রীয় আর্থিক চাপ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, য deren মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। এর বড় একটি অংশ তেলভিত্তিক কেন্দ্র, যেগুলোর অনেকগুলো এখন কার্যত অপ্রয়োজনীয়। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্র চালু হওয়ায় এসব তেলচালিত কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসছে না। তবুও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকারকে নিয়মিত ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে।

খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গত দুই বছরেও এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি। অথচ এই কেন্দ্রের জন্য বছরে গড়ে ২০০ কোটির বেশি টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে ঘোড়াশালের ১০৮ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্রেও, যা বছরে উৎপাদন সক্ষমতার ৩ শতাংশেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, কিন্তু মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েছে।

পিডিবি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারণে প্রতিবছর প্রায় ১০০ কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। গত ১৫ বছরে পিডিবি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় করেছে ৬ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জেই চলে গেছে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ চাহিদা অযৌক্তিকভাবে বেশি দেখিয়ে বিশেষ আইনের আওতায় দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই উচ্চমূল্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিমের ভাষায়, “যেসব কেন্দ্র ৪০ শতাংশের কম উৎপাদন করে, সেগুলোর কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই। অথচ সেগুলোর পেছনেই রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।”

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম নিয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেনার দাম কমাতে আইপিপিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি বিদ্যুৎ খাতের এসব চুক্তি ও লেনদেন খতিয়ে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বিদ্যুৎ খাতে এই আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি দেশের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উত্তরা শাখায় বুধবার (৮ জুলাই) এক গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজিং ডাইরেক্টর...

মিডিয়া সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-মিসরের নতুন প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও মিসরের মধ্যে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মধ্যে একটি...

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ আবাসনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী...

বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকা থেকে ঢাকাকে মুক্ত করা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে...

Recent Comments