আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা–কর্মচারীদের তালিকা তৈরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত করতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, প্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে যদি কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই–বাছাই শেষে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ৩৬ দফার একটি প্রস্তাব জমা দেয়, যেখানে দলীয় পরিচিতি রয়েছে— এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পোলিং দায়িত্বে না রাখার দাবি জানানো হয়। উদাহরণ হিসেবে ইসলামী ব্যাংক, আল–আরাফাহ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়।
বিএনপি অভিযোগ করে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু পদে সম্প্রতি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাদের দাবি, নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন রাখতে নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন কর্মকর্তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তবে বিএনপির এই প্রস্তাবের কয়েক দিন পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে উদ্বেগ জানায়। তারা অভিযোগ তোলে, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার আহ্বান বৈষম্যমূলক হতে পারে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে অযথা জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানায়, পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে নিরপেক্ষতাই হবে মুখ্য বিবেচ্য বিষয় এবং প্রয়োজনীয় যাচাই–বাছাই নিশ্চিত করেই প্যানেল চূড়ান্ত করা হবে।


