বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের অধীনে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিতে সীমাহীন দুর্নীতি, যোগসাজশ ও জালিয়াতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি।
রোববার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে কমিটি তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে হস্তান্তর করে।
জাতীয় কমিটির প্রধান হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, “বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিতে আমরা সীমাহীন দুর্নীতি, যোগসাজশ, জালিয়াতি ও অনিয়ম পেয়েছি। এটি খুব জটিল ও টেকনিক্যাল একটি প্রক্রিয়া। তাই বিশ্লেষণ করে আমরা এই অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দিয়েছি, জানুয়ারির মাঝামাঝি আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব।”
তিনি বলেন, “প্রতিবেদনটি বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে, তবে এটি গোপনীয়। উপদেষ্টা যদি প্রকাশ করেন, তখন সবাই বিস্তারিত জানতে পারবেন।”কমিটির সদস্য ও ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান বলেন, “এই চুক্তিগুলো সার্বভৌম চুক্তি হওয়ায় ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। তবে আমরা প্রমাণ পেয়েছি, এতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বিদ্যুতের দাম এখন প্রতিযোগী দেশের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি, সাবসিডি তুলে নিলে তা ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে। এই দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকতে পারছে না।”
তিনি আরও জানান, “যেসব কর্মকর্তা বা রাজনীতিবিদ এই দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, তাদের দায় ভবিষ্যতে নির্ধারণ করা হবে। প্রমাণ সংগ্রহ চলছে, অ্যাকশন নেওয়া হবে।”
কমিটির আরেক সদস্য, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “২০১১ সালে বিদ্যুতের জন্য ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৭.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ উৎপাদন মাত্র চার গুণ বেড়েছে, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে ১১ গুণের বেশি—এটি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।”
তিনি যোগ করেন, “সরকার, আমলা ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে যোগসাজশের প্রমাণ মিলেছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে, এজন্য আমরা একটি স্বাধীন সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছি।”
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, “শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে চুক্তি বাতিল করা যাবে না। দুর্নীতির প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে সরকারের ওপর বাড়তি ক্ষতির বোঝা চাপানো হবে না।”
জাতীয় কমিটির এই প্রতিবেদনের পর বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


