রাজধানীর বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল, গুলশান ও তেজগাঁওয়ে গত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি-জুলাই) মব সহিংসতা ও দাঙ্গার ঘটনা বেড়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যানুসারে, এ সময়ে রাজধানীতে মোট ৩৮টি দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ১৩টি মতিঝিলে, আটটি গুলশানে এবং সাতটি তেজগাঁওয়ে সংঘটিত হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব ঘটনায় রাজধানীর প্রধান ব্যবসায়িক এলাকায় আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “মতিঝিল, গুলশান ও তেজগাঁওসহ বাণিজ্যিক এলাকায় মবের ঘটনা ব্যবসায়িক আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
মতিঝিলে বাণিজ্যিক ভবন দখলের চেষ্টা, গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্যের স্ত্রীর বাসায় গুজব ছড়িয়ে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা এবং বারিধারায় ফ্ল্যাট দখলের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এ ছাড়া এসব এলাকায় দস্যুতা ও জখমের ঘটনাও বেশি ঘটছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মব দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপির উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা পুলিশকে মব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তবে শুধু পুলিশ চাইলেই হবে না, এখানে সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা লাগবে। আমরা বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে আলাপ করছি। তাদের সহযোগিতা চাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা পুলিশের পেট্রোল গাড়িগুলোয় ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করেছি। কোথাও মব হলে সেখানকার পরিস্থিতি মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছি।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যমান আইনে মবকে আলাদা অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “মব সহিংসতা ব্যবসায়িক আস্থা সংকুচিত করছে, নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।”
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে না।”


