গ্রাহকেরা ঝুঁকি বিবেচনা না করে বেশি সুদের লোভে বা আশায় ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখতেন। ফলে যে ব্যাংক যত বেশি সুদ দিত, সেটি তত বেশি আমানত পেত। এভাবে উচ্চ সুদে আমানত নেওয়া অনেক ব্যাংক এখন গ্রাহকদের মূল টাকাই ফেরত দিতে পারছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছরে ব্যাংকের আমানতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বেশি সুদ নয়, বরং যেসব ব্যাংকের সেবার মান ও ভাবমূর্তি যত ভালো, সেগুলোর ওপরই গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে। সময়োপযোগী সেবা প্রদানই এসব ব্যাংককে আমানত সংগ্রহের শীর্ষে নিয়ে গেছে। এসব ব্যাংককে আমানত সংগ্রহের জন্য বাড়তি কোনো তৎপরতাও চালাতে দেখা যায়নি। অর্থাৎ ভালো ব্যাংকগুলো এখন স্বাভাবিকভাবেই বেশি আমানত পাচ্ছে।
গত এক বছরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমানত সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের। এই দুই ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। একই সময়ে আমানত সংগ্রহে পূবালী ব্যাংকের ২০ শতাংশের বেশি, যমুনা ব্যাংকের ১৯ শতাংশ ও ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সিটি, ব্র্যাক ও পূবালী ব্যাংক এগিয়ে
বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের জুনের শেষে তাদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন থেকে চলতি ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সিটি ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৮ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকটির আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই ব্যাংকের রিটেইল আমানত বেড়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট ও করপোরেট আমানত বেড়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। ইসলামি ধারায় আমানত প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া এসএমই ও এজেন্ট ব্যাংকিং আমানতও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছরে ব্র্যাক ব্যাংকের আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ বছরের জুনে ব্যাংকটির আমানত বেড়ে হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবা দিয়ে ব্যাংকটি সারা দেশে একটি বড় গ্রাহক ভিত্তি তৈরি করেছে, যা এই বিশাল প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। ব্যাংকটি শাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বেশি আমানত পাচ্ছে।
এক বছরে পূবালী ব্যাংকের আমানতে ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত জুনের শেষে এই ব্যাংকে আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের আস্থা এবং বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কই এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান।


