বাগেরহাটের রামপালে অবস্থিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে। কেন্দ্রের বাংলাদেশি এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে বেতন বৈষম্য ও নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত জুন মাসে আইনজীবী সালেকুজ্জামান সাগর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটে তিনি উল্লেখ করেন, একই পদে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারের বেতন ২৫ লাখ টাকা হলেও বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারের বেতন মাত্র ১ লাখ টাকা। এছাড়া উচ্চপদে ভারতীয় কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, বিশেষ ধর্মের ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদানের অভিযোগও তোলা হয়। হাইকোর্ট শুনানিতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।
রুলের পর দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) রামপাল কেন্দ্রে অভিযান চালায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের নিজস্ব নীতিমালা থাকলেও ভারতীয় কর্মকর্তাদের জন্য বেশি সুবিধা রয়েছে। নীতি অনুযায়ী একজন বিদেশি কর্মকর্তার বিপরীতে ২০ জন দেশি কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের অদক্ষতার অজুহাত দেখিয়ে নিয়ম মানা হচ্ছে না।
কেন্দ্রে বর্তমানে ৫২৪ জন কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে ৩৬ জন ভারতীয় নাগরিক। কেন্দ্রে একজন পিডি, পাঁচজন জিএম, ১৫ জন এজিএম এবং ৯ জন ডিজিএম রয়েছেন। ঢাকার অফিসে এমডি একজন, চিফ অফিসার একজন, জিএম একজন, ডিজিএম দুজন এবং এজিএম একজন কর্মরত আছেন।
দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, “কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে বৈষম্য, টেন্ডার দুর্নীতি এবং মালামালের অবৈধ বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রমাণসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।” রামপাল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে বেতন বৈষম্য নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বেতনের তারতম্য নির্মাণকালের যৌথ চুক্তির ভিত্তিতে করা হয়েছে।
রামপাল কেন্দ্রটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। বর্তমানে ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্র দেশের অন্যতম বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আগস্টে কেন্দ্রের প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর ছিল ৭৮.৫৮%, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭.৬২% অবদান রাখে।


